তখন লকডাউন চলে, কঠোর লকডাউন।
আমাদের সাবেক প্লাটফর্ম DefRes তখন তুমুল জনপ্রিয়। দেশের শীর্ষ টিভি চ্যানেল থেকে শুরু করে বিদেশী অনেক গণমাধ্যমেও DefRes এর নিউজ চলে গেছে। তখন প্রায়ই দেশের হাইপ্রোফাইল লোকেদের ম্যাসেজ পেতাম, সবাই অনুপ্রেরণা দিতো। লকডাউনে আমরা মিডিয়ার কল্যাণে জানতাম তখন শুধুমাত্র বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ বিমানে করে কিছু জিনিশপত্র আনা হয়েছিলো In aid to civil power এর আওতায়। তার আগে এসেছিল ১০,০০০ টেস্ট কিট, প্রথম সারির ডাক্তারদের জন্য ১০,০০০ পিপিই, এবং ১০০০ থার্মোমিটার।
তো সেই লকডাউনে একদিন চীনের এম্বাসির এক চৈনিক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ এক নিউজ আমাদেরকে দিলেন। চীন থেকে কার্গো বিমান ভরে পিপিই, মাস্ক, টেস্ট কিট এসেছে এবং সবগুলোই চীনের সরকারের অনুদান হিসেবে এসেছে। জাতির সেই দুঃসময়ে আমরা খবরটা আনন্দের সাথে আমাদের পেইজে পোস্ট করি, সাথে সাথে ছড়িয়ে পরে সোশাল মিডিয়াজুরে। এর দুইদিন পর সেই চৈনিক ভদ্রলোক আবার ম্যাসেজ করলেন আমাদেরকে। উনার কথায় বুঝতে পারলাম এই নিউজ পাবলিশ হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার তার উপর চাপ প্রয়োগ করছে। উনি অনুরোধ করেন আমরা যেন এই পোস্টটি এবং ছবিগুলো ডিলিট করে দেই। আমরা সাত-পাঁচ না ভেবে ডিলিট করে দেই।
সেই ঘটনাটি আমাদের জন্য সেখানেই শেষ। তার অনেক পরে একটা মাধ্যম থেকে জানতে পারি সরকার এবং রাস্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে চাইনিজ লোকটির জবাবদিহিতা করতে হয়েছে। বেচারা অনেক চাপের মাঝে ছিল। ভেবেছিলাম হয়তো উনার প্রটোকল ভঙ্গ করেছেন বা প্রেস রিলিজ ছাড়াই আমাদেরকে প্রচার করতে বলেছেন বিধায় তাকে জবাবদিহিতা করতে হয়েছে।
কিন্তু তার অনেক পরে আসল ঘটনাটা জানা যায়। চীন থেকে অনুদান হিসেবে সেই লটে যেসব মেডিকেল সরঞ্জাম এসেছিল তা অনুদান নয় বরং আমদানি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্নসাৎ করা হয়েছে। রহস্যজনকভাবে সেই সময়ে মেডিকেল সরঞ্জাম আসার খবরটা বাংলাদেশের কোন মিডিয়ায় আসেনি এমনকী চীনের কোন মিডিয়ায়ও না। অনুদান হিসেবে আসা জিনিশগুলো বন্টনের সময় দাতা দেশের প্রতিনিধিও ছিল না। এরপরে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় কল্যাণে জানা যায় করোনাকালে মেডিকেল সরঞ্জামগুলো বণ্টন এবং ব্যবহারেও হয়েছে চরম অনিয়ম।